২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু বর্তমানের সুপারস্টারদের লড়াই নয়, বরং আগামী দিনের ফুটবল তারকাদের আত্মপ্রকাশেরও মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরে রেকর্ড সংখ্যক ১,২৪৮ জন খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৮৯১ জনই খেলছেন নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ।
কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম কিংবা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকাদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলারও এই টুর্নামেন্টে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগ পাবেন। তাদের মধ্যে অনেকে এখনও বিশ্ব ফুটবলের মূলধারায় পুরোপুরি পরিচিত নন। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর তারাই হয়তো হয়ে উঠবেন আগামী দশকের বড় তারকা।
কেন ২০২৬ বিশ্বকাপ তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ?
বিশ্বকাপ সবসময়ই নতুন প্রতিভাদের উত্থানের মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৫৮ সালে পেলে, ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনা, ২০১৪ সালে হেমস রদ্রিগেস এবং ২০১৮ সালে কিলিয়ান এমবাপে বিশ্বকাপ থেকেই নিজেদের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তৈরি করেছিলেন।
২০২৬ সালেও একই ধরনের গল্প দেখা যেতে পারে। ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিভাবান তরুণরা এবার নিজেদের প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত।
ইয়ান দিওমান্দে: আইভরি কোস্টের নতুন তারকা
বয়স: ১৯
পজিশন: উইঙ্গার
ক্লাব: আরবি লাইপজিগ
আইভরি কোস্টের ইয়ান দিওমান্দে ইতোমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম আলোচিত তরুণ ফুটবলার। জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি লিভারপুল, রিয়াল মাদ্রিদ এবং ম্যানচেস্টার সিটির মতো ক্লাবগুলোর নজরে এসেছেন।
গত মৌসুমে তিনি বুন্দেসলিগায় ১২ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট করে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেন। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ হতে পারে তার ক্যারিয়ারের বড় মোড়।
গিলবার্তো মোরা: মেক্সিকোর বিস্ময় বালক
বয়স: ১৭
পজিশন: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
ক্লাব: টিহুয়ানা
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই গিলবার্তো মোরা মেক্সিকান ফুটবলের সবচেয়ে বড় প্রতিভাগুলোর একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
লিগা এমএক্স ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে তিনি ইতোমধ্যেই রেকর্ড গড়েছেন। তার অসাধারণ সৃজনশীলতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের কারণে তাকে ‘মেক্সিকান পেদ্রি’ নামেও ডাকা হয়।
ইয়োহান মানজাম্বি: সুইজারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ
বয়স: ২০
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: ফ্রাইবুর্গ
সুইজারল্যান্ডের এই তরুণ মিডফিল্ডার গত মৌসুমে ইউরোপা লিগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সবার নজর কেড়েছেন।
মাঝমাঠে তার বহুমুখী দক্ষতা এবং গোল করার ক্ষমতা তাকে সুইস ফুটবলের অন্যতম সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।
ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো: আর্জেন্টিনার নতুন আশা
বয়স: ১৮
পজিশন: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
ক্লাব: রিভার প্লেট
লিওনেল মেসির পর আর্জেন্টিনার পরবর্তী বড় তারকা হিসেবে অনেকেই ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনোকে দেখছেন।
তার ড্রিবলিং, পাসিং এবং দূরপাল্লার শট ইতোমধ্যেই ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কেড়েছে।
এস্তেভাও উইলিয়ান: ব্রাজিলের নতুন রত্ন
বয়স: ১৯
পজিশন: উইঙ্গার
ক্লাব: পালমেইরাস
এস্তেভাও উইলিয়ানকে ব্রাজিলের অন্যতম বড় প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার গতি, ড্রিবলিং এবং গোল করার ক্ষমতা অনেকের কাছে নেইমারের শুরুর দিকের খেলার কথা মনে করিয়ে দেয়।
কেনান ইয়িলদিজ: তুরস্কের উদীয়মান তারকা
বয়স: ২১
পজিশন: ফরোয়ার্ড
ক্লাব: জুভেন্টাস
জুভেন্টাসের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা কেনান ইয়িলদিজ ইতোমধ্যেই তুরস্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন।
আরদা গুলের: তুরস্কের সৃজনশীল জাদুকর
বয়স: ২১
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: রিয়াল মাদ্রিদ
রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ মিডফিল্ডার আরদা গুলেরকে ইউরোপের অন্যতম সেরা প্রতিভা হিসেবে ধরা হয়।
আন্তোনিও নুসা: নরওয়ের ভবিষ্যৎ তারকা
বয়স: ২১
পজিশন: উইঙ্গার
ক্লাব: লাইপজিগ
অসাধারণ গতি এবং ড্রিবলিংয়ের কারণে আন্তোনিও নুসাকে ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় ফুটবলার হিসেবে দেখা হয়।
জোব বেলিংহ্যাম: ভাইয়ের পথ অনুসরণে
বয়স: ২০
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: বরুসিয়া ডর্টমুন্ড
জুড বেলিংহ্যামের ছোট ভাই জোব বেলিংহ্যামও ধীরে ধীরে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের পরিচিতি তৈরি করছেন।
ক্লদিও এচেভেরি: আর্জেন্টিনার নতুন জাদুকর
বয়স: ২০
পজিশন: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
ক্লাব: ম্যানচেস্টার সিটি
তার অসাধারণ টেকনিক এবং সৃজনশীলতা ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মুগ্ধ করেছে।
ওয়ারেন জাইরে-এমেরি: ফ্রান্সের মাঝমাঠের ভবিষ্যৎ
বয়স: ২০
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: পিএসজি
ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে ফরাসি ফুটবলের আগামী প্রজন্মের অন্যতম সেরা প্রতিভা মনে করা হয়।
কোবি মাইনু: ইংল্যান্ডের নতুন মিডফিল্ড জেনারেল
বয়স: ২১
পজিশন: মিডফিল্ডার
ক্লাব: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
ইংল্যান্ডের হয়ে কোবি মাইনু ইতোমধ্যেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
জাভি সিমন্স: নেদারল্যান্ডসের সৃজনশীল শক্তি
বয়স: ২৩
পজিশন: অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার
ক্লাব: লাইপজিগ
জাভি সিমন্স ইতোমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম সেরা তরুণ মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে কারা হতে পারেন নতুন সুপারস্টার?
বিশ্বকাপ সবসময়ই নতুন কিংবদন্তিদের জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ সালেও তার ব্যতিক্রম হবে না।
ইয়ান দিওমান্দে, গিলবার্তো মোরা, ইয়োহান মানজাম্বি, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, এস্তেভাও উইলিয়ান এবং আরদা গুলেরের মতো খেলোয়াড়রা এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসতে পারেন।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তাই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু শিরোপা জয়ের লড়াই নয়, বরং ভবিষ্যতের সুপারস্টারদের আবিষ্কারেরও এক দুর্দান্ত মঞ্চ হতে যাচ্ছে।
